পোস্টগুলি

alternative writing লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বাংলা কবিতায় ব্রাহ্মণ্যবাদ

  বাংলা কবিতায় ব্রাহ্মণ্যবাদ মুরারি সিংহ   একটা কথা, যেটা এখন আমার খুব মনে হচ্ছে, কোনো রাখ-ঢাক না করে সেটা খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার; বলছি, আজকে আমরা যাকে মূলধারার বাংলা কবিতা বলে জানি তা এখনো ব্রাহ্মণ্যবাদের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি।     জানি, এখানে ব্রাহ্মণ্যবাদ শব্দটার প্রয়োগ দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠতে পারে। তাঁরা প্রশ্ন করতে পারেন ব্রাহ্মণ্যবাদ বলে আমরা যাকে বুঝি, সে তো   এক বিশেষ ধর্মীয়-সমাজের সঙ্গে যুক্ত; বাংলা- কবিতার সঙ্গে তার সম্পর্ক কোথায়। মজাটা এখানেই। আসলে   কবিতায় ব্রাহ্মণ্যবাদ বলতে আমি যা বোঝাতে চাইছি, সেটাকে এক কথায় বলা যায়, এক ধরণের বিশেষ মানসিকতা। একটা সংস্কার। সেই মানসিকতা বা সংস্কারের অন্যতম লক্ষণ পরম নিষ্ঠার সঙ্গে কবিতায় তথাকথিত শুদ্ধতা ও পবিত্রতা রক্ষার প্রতি অবিচল থাকা। সেই সঙ্গে এটাও দেখা, কবিতার ছন্দ-প্রকরণ-ভাষা বা শব্দ-প্রয়োগ কোনোকিছুতেই যেন কোনো উদ্দেশ্যমূলক ভাব না থাকে। যেন কোনো হইচই, চিৎকার বা গলাবাজি ঢুকে না পড়ে। কবিতা যেন হয় এক চিরায়ত বোধের নির্যাস।   অর্থাৎ কবিতা হবে কবির নিজস্ব মন্ত্রোচ্চারণ এবং ব্যক্তিগত...

কে যেন ঘুর ঘুর করে (১৮)

কে যেন ঘুর ঘুর করে ( ১৮ )   আমাদের পুরাণের গল্পগুলো সত্যিই বড়ো অদ্ভূত। এইসব গল্প-কাহিনিতে লোকায়ত-ভাবনার কত রূপই না প্রকাশিত হয়েছে।  কিন্তু আমাদের এমনি হতভাগ্য অবস্থা আমরা তাদের মোটা দাগের ধর্মীয় আবরণে ঢেকে তাতে গদগদ ভক্তিরস উপুড় করে দিয়েছি। অন্যদিকে সেই ধর্মীয় আস্তরণের অজুহাত দেখিয়ে আমাদের সারস্বত সমাজও পৌরাণিক ব্যাপারগুলোকে অছূত করে রেখেছে। সেগুলো থেকে নিজেদের অতীতকে নতুন করে আবিষ্কারের রাস্তায় হাঁটেনি, আলাপ-আলোচনায় সেগুলো নিয়ে বিকল্প কোনো ভাবনাকে আমল দেয়নি। অথচ এদেশের লোকভাবনার বিকাশ ও বিস্তারকে জানার জন্যে এগুলো হয়ে উঠতে পারে অমূল্য আকর। আমরা ভুলে যাই, বৈদিক আর্যরা এদেশের ভূমিপুত্র-ভূমিকন্যাদের জন্য তাদের সদর দরজাতে খিল এঁটে দিলেও সমাজের খিড়কি দরজাটা কিন্তু খোলাই ছিল। সেই পথেই এদেশের কালো-কুৎসিত মানুষগুলো তাদের ধর্মভাবনা, সমাজভাবনা, সাংস্কৃতিক চিন্তা সবকিছু বগলদাবা করে শিষ্ট-সমাজের অন্দরমহলে ঢুকে পড়ে প্রাচীন যা-কিছু সব তছনছ করে তাকে দেশীয় ঐতিহ্যে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে।  প্রাচীন কর্তারা শুধু সবকিছুর উপর বারে বারে ব্রাহ্মণ্যমতের মন্ত্রপূত জল ছিটিয়ে তাদের শুদ্ধ...

একটি অনুরোধ

  বন্ধুরা, আমার ‘কে যেন ঘুর ঘুর করে’ এই শিরোনামে আমরা ব্লগ ‘প্রান্তজন’-এ যে ধারাবাহিক গদ্যটা লিখছি তার আজ ১৭ নং কিস্তি প্রকাশিত হয়েছে।  কিছু মন্তব্য পেয়েছি, ব্লগের ভিউয়ারও হাজার ছুঁতে চলল, যাঁরা পড়ছেন সকলকে ধন্যবাদ। আমি চাইছি, সম্পূর্ণ নতুন এবং বিকল্প ঘরানার এই গদ্যটা  আরো বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছে যাক এবং আরো বেশি মতামত আসুক। তবে এ পর্যন্ত যাঁরা মতামত দিয়েছেন  সকলেই ফেসবুকে, তাঁদের অনুরোধ করব আমার ব্লগেঅ আপনাদের মূল্যবান মতামত দিন, সেখানে আপনাদের ভালো-লাগা, মন্দ-লাগা লিপিবদ্ধ করুন। পারলে ব্লগটি ফলো করুন।  তাহলে আমি পরের কিস্তিগুলো লিখতে আরো উৎসাহিত হব। সকলকে ধন্যবাদ। সকলেই ভালো থাকুন।

কে যেন ঘুর ঘুর করে (১৭)

  কে যেন ঘুর ঘুর করে ( ১৭ ) ভাবনাবাবুর ভাষণ শুনে আমি থ হয়ে ঘেমে থস থস করছি, মনে পড়ছে সেই কবে অবন-ঠাকুর লিখে গেছেন ‘মাথাটা যেন বাংলা খবরের কাগজ, মূল্য দুই পয়সা মাত্র’, আজকের দিন হলে তিনি নিশ্চয় খবরের কাগজের জায়গায় বাংলা সিরিয়াল লিখতেন। আমার নাতির আবার গণেশের মূর্তি খুব ফেভারিট। সে সিন্থেটিক ক্লে দিয়ে গণপতি-বাপ্পার মূর্তি বানায়, তার ড্রয়িংখাতায় সেই মূর্তির ছবি আঁকে, সঙ্গে ইঁদুরটাকে জুড়ে দিতে ভোলে না। তাই দেখে সবজান্তা গামছাওলা আবার শুরু করলেন, তাহলে বোঝ, কোথাকার একটা তুচ্ছ ইঁদুর তাও শেষ পর্যন্ত সর্ব-বিঘ্ননাশক গণদেবতার বাহন হয়ে গেল।  এটা গেঁড়ি-গুগলি-কাঁকড়ি-খাওয়া মাথা ছাড়া ওই ঘি-দুধ-মাখনে পুষ্ট ভদ্রলোকেদের মগজে কখনো আসত?  এবার আসা যাক আরেক হাইব্রিড মূর্তির কথায়; তিনি আবার বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার বাবা নৃসিংহদেব। স্ফিংসের ছিল সিংহের দেহ আর মানুষের মুণ্ডু, আমাদের অবতারের বেলায় দেখ, সেটা আবার কেমন উলটে গেল। তেনার আধাআধি। দেহের নীচের দিকটা মানুষের আর উপরের দিকটা সিংহের।   তুই যদি বিষ্ণুর অবতারের  রূপগুলো পরের পর সাজিয়ে দেখিস তাহলে ডারুইনের থেয়োরির একটা ছায়া দেখতে পাব...

কে যেন ঘুর ঘুর করে (১৬)

  কে যেন ঘুর ঘুর করে ( ১৬ ) এই গদ্যটা লেখা শুরু করার পর থেকেই প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে , কখন ভাবনাবাবু এসে দরজার কড়া ঠক্‌ঠক করবে। তখন দরজা না খুললে, ভাবনাবাবু গোঁসা করে ফিরে যাবেন, আমার লেখাও আর   এগোবে না। আর এই লকডাউনের বাজারে তেনার সঙ্গে আড্ডাটাও বেশ ভালো জমে। তিনি ভূত না হলেও অদ্ভূত তো বটে।   বিক্রম-বেতালের গল্পের বেতালের মতোই সব সময় আমার ঘাড়ে চেপে থাকতে চায়।   থুড়ি , ঘাড়ে নয় মাথায়।   এখন আবার তাঁর কড়ানাড়া শোনা যাচ্ছে। দেখি, প্রভু কী বলেন। তাঁকে আপ্যায়ন করে বললাম, বলেন কত্তা, আপনার গ্রিক মাইথোলজির গল্প শেষ হল।   তিনি বললেন সে কী রে পাগলা, শুধু গ্রিক মাইথোলজি নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে, একবার নিজের দেশের দিকে তাকাবি না।   বললাম ওরে বাবা, আবার আমার দেশেও আছে নাকি ওই রকম কোনো স্ফিংস বা আনুবিসের মুর্তি?   ভাবনাবাবু বললেন, কেন, অত বড়ো বড়ো দুটো চোখ নিয়ে তুই কি গণেশ-বাবাজির মূর্তি দেখতে পাস না।   আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, সে কী, কোথায় স্ফিংস-আনুবিস আর কোথায় নাদুস-নুদুস গণেশ-ঠাকুর! কামাল করছেন স্যার।   ভাবনাবাবু একটু বিষণ্ণ হয়ে বললেন, কেন রে, স্বদেশের ...

কে যেন ঘুর ঘুর করে (১৫)

  কে যেন ঘুর ঘুর করে ( ১৫ ) মাথার মধ্যে ঘুর-ঘুরে পোকার কারবার আমাকে মাঝে মাঝে অস্থির করে দেয়। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমার ভাবনাবাবুর হানাদারি। আসলে ভাবনাবাবুই আমার সেই ঘুর-ঘুরে পোকা। আমাকে সে ক্রমাগত প্রশ্ন করতে থাকে, এটা কী, ওটা কেন। মাঝে মাঝে মনে হয়, দূর-দূর, ভাবনার যখন কোনো আদি-অন্ত নেই, তখন এত ভেবে সব সময় নিজেকে ব্যতিব্যস্ত করে কী লাভ? আর কিছু ভাবব না। চুপচাপ বসে থাকব, শুয়ে থাকব, নিশ্চিন্তে ঘুমোব্‌ টিভি দেখব, মোবাইল সার্ফ করব। আমা্দের কর্তাবাবুরাই তো বলে গেছেন, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে কী হবে? এবার বরং চার্বাক-বাবার শিষ্য হয়ে যাব, খাও-পিও-জিও। মনে তো অনেক কিছুই হয়, কিন্তু টিভির ঘ্যানঘ্যানানি ভালো লাগে না, মোবাইলেও বিরক্ত আসে; তখন আবার ভাবনা আসে, কিছু না ভেবে থাকতে পারি কই। মনুষ্য-জন্মের বোধহয় এই এক জ্বালা। সারা-জীবন শুধু ভেবে যাও। আর এটা পড়ো, ওটা পড়ো, একে জিজ্ঞেস করো, ওর আলোচনায় যোগ দাও, ইত্যাদি। সুতরাং ভাবতেই হয়, আর অমনি ভাবনাবাবু এসে হাজির। সেদিন তো হরপ্পা-সভ্যতার পশুপতির সঙ্গে মিশরের স্ফিংসকে মিলিয়ে দিল, আজ আবার কী বলে দেখি। বুঝেছি বুঝেছি, তুই পশুপতি আর স্ফিংস নিয়ে ভাবছিস ...